চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এলএনজিবাহী পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে আট শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে যান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি ঘটনাটিকে ‘খুবই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের আশ্বাস দেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হতে যাচ্ছে। কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কারও পক্ষে-বিপক্ষে কিছু নেই। সরকারের দায়িত্ব হলো তদন্ত করে সঠিক তথ্য বের করে আনা।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে গেছে। তারা জাহাজ থেকে গ্যাস নির্গমন বন্ধে কাজ করছে।
শিল্প খাতে নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার বিষয়ে আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্পের কমপ্লায়েন্সের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। হংকং চার্টারের আওতায় শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোর গ্রেডিং করা হয় এবং গ্রিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের সনদ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘সরকার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো কমপ্লায়েন্সের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা। যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে পুরোনো একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে নামেন। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিক মারা যান। গুরুতর অসুস্থ অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনাটি বিস্ফোরণ বলে খবর ছড়িয়ে পড়লেও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ৮
দুর্ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নাসির উদ্দিন (৪৭), মনসুর আহমদ (৫৫), সানি জলদাশ (৩৫), পলাশ জলদাশ (৩৯), মো. খোকন (৪০) ও মো. রানা (২৭)।
নাসির উদ্দিন ও মনসুর আহমদ সম্পর্কে দুই ভাই এবং তারা সেকান্দর মিয়ার ছেলে। সানি জলদাশ ও পলাশ জলদাশ সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আর খোকন ও রানা গাইবান্ধার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আহত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
দুপুরে সীতাকুণ্ড থানার ওসি তদন্ত মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আহত শ্রমিকদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।